মোংলার জয়মনিতে কুমিরের আক্রমণে নিহত ১

৯:২০ AM 0 Comments A+ a-

১৭ জুন (বুধবার) শেলা নদীর লঞ্চঘাট চর এলাকায় মাছ ধরার সময় কুমিরের আক্রমণে সেলিমা বেগম (৫৫) নামের এক নারী নিহত হয়েছেন। নিহত সেলিনার বাড়ি মোংলা থানার চিলা ইউনিয়ন জায়মনি গ্রামের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে । আনুমানিক সন্ধ্যা ৬:৩০ মিনিটে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। তবে আক্রমণ চলাকালীন সাথে থাকা অপর দুই নারীর সাহসিকতা ও তাৎক্ষণিক প্রতিরোধের কারণে কুমিরটি শেষ পর্যন্ত সেলিমা বেগমকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়।


স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত সেলিনার স্বামীর নাম আব্দুল্লাহ শেখ তার পরিবারের রয়েছে তিন সন্তান। নিহত সেলিমা বেগম প্রতিদিনের মতো ঘটনার দিন সন্ধ্যায় শেলা নদীর লঞ্চঘাট সংলগ্ন চর এলাকায় মাছ ধরছিলেন। তাঁর সঙ্গে ফাতেমা বেগম(৫৩) ও রোজিনা বেগম(৫৬) নামের আরও দুই নারী মাছ ধরছিলেন। আনুমানিক সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে হঠাৎ একটি বিশাল আকৃতির কুমির নদী থেকে উঠে এসে সেলিমা বেগমের ওপর অতর্কিত আক্রমণ চালায় এবং তাঁকে টেনে পানিতে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। সহকর্মীকে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরিয়ে আনতে ফাতেমা বেগম ও রোজিনা বেগম নিজেদের জীবনের তোয়াক্কা না করে কুমিরটির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন। তাঁরা হাতের কাছে থাকা লাঠি ও নৌকার বৈঠা দিয়ে কুমিরটিকে ক্রমাগত আঘাত করতে থাকেন। দুই নারীর তীব্র প্রতিরোধের মুখে একপর্যায়ে কুমিরটি সেলিমা বেগমকে ছেড়ে দিয়ে গভীর পানিতে তলিয়ে যায়। পরবর্তীতে গ্রামবাসী কুমিরের কবল থেকে সেলিমা বেগমকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও, শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক জখম ও অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।

এই ঘটনায় নিহত সেলিনার পরিবারে তিন ছেলে মেয়ে ও স্বামী আব্দুল্লাহ শেখ ও তাঁর আত্মীয়-স্বজনের এলাকাবাসী  ভিতর গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

ঘটনার পর থেকে স্থানীয় জেলে ও তীরবর্তী বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র কুমির-আতঙ্ক বিরাজ করছে।সন্ধ্যার পর বা রাতে নদীতে নামা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

হরিণ শিকারের ৫০ ফুট মালাফাঁদ জব্দ, আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করেছে বন বিভাগ

১২:২৪ AM 0 Comments A+ a-

 


মোঃ কারিমুল ইসলাম মোংলা প্রতিনিধি : 

সুন্দরবনের আন্ধারমানিক ইকো-ট্যুরিজম কেন্দ্র সংলগ্ন বড় হেতালমারি খাল এলাকার বনাঞ্চল থেকে হরিণ শিকারের বিপুল পরিমাণ ফাঁদ জব্দ করেছে বন বিভাগ। 

আজ বুধবার (৩ জুন) সকাল ১১টার দিকে নিয়মিত টহল দেওয়ার সময় এই ফাঁদগুলো উদ্ধার করা হয়।

চাঁদপাই ফরেস্ট  রেঞ্জ সহকারি কর্মকর্তা মোস্তাকিম বিল্লাহ বলেন, চাঁদপাই রেঞ্জ কর্মকর্তা দ্বীপন চন্দ্র দাস এর নির্দেশে মোতাবেক, বন্যপ্রাণী নিধন ও অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধে আজ সকালে আন্ধারমানিক ইকো-ট্যুরিজম কেন্দ্রের বড় হেতালমারি খাল এলাকায় বনরক্ষীরা পায়ে হেঁটে নিয়মিত টহল দিচ্ছিলেন। টহল চলাকালীন বনের গভীর থেকে শিকারীদের পেতে রাখা আনুমানিক ৫০ ফুট দীর্ঘ হরিণ শিকারের মালাফাঁদ পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

পরবর্তীতে উদ্ধারকৃত বন্যপ্রাণী শিকারের এই ক্ষতিকারক ফাঁদগুলো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে চাঁদপাই রেঞ্জ অফিসে এনে আগুনে পুড়িয়ে সম্পূর্ণ ধ্বংস করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় কোনো শিকারীকে আটক করা সম্ভব হয়নি। বন বিভাগের উপস্থিতি টের পেয়ে শিকারীরা বনের গভীরে পালিয়ে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বন্যপ্রাণী ও সুন্দরবনের সুরক্ষায় বন বিভাগের এই কঠোর অভিযান ও নিয়মিত টহল অব্যাহত থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।